বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৬

ভালোবাসি বলে।

চোখটা সারাক্ষণ জ্বালা করে। পানি নেই, লাল লাল ভাব নেই, শুধু শুধুই জ্বলে। শূন্য বিছানার বাঁ দিকটা দেখলে জ্বলে। আলমারিটার অর্ধেকজুড়ে তোমার জামাকাপড়। লাল শাড়িটা বিয়ের। নীল জর্জেটটা নিউমার্কেট থেকে কেনা, ঈদে। বৈশাখের ওই লাল সাদা-শাড়িটাও আছে। ড্রয়ারভর্তি ক্লিপ, ব্যান্ড, টিপ এতিমের মতো পড়ে আছে। প্রতিদিন দেখতে হয় তাই দেখি। আর চোখদুটো জ্বালা করে। ঠিক নয়টায় আমাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করত, ‘অফিসে পৌঁছেছ?’ নয়টা বাজলে এখনো মুঠোফোনটা হাতে নিয়ে চেয়ে থাকি। এখন আর নয়টায় কল আসে না। চুপচাপ পুরোনো খুদে বার্তাগুলো পড়ি। আর বুকে মোচড় দেয়। দুইটায় ক্যানটিনে গিয়ে বসে থাকি। গলা দিয়ে ভাত নামে না। কেউ তো আর বলবে না, ‘খেয়েছ’? বুকটা জ্বলতে থাকে। গ্যাস্ট্রিক-আলসারে নয়। অন্য কোনো কারণে। বিকেলে বাসের লাইনে পা নড়ে না। কোথায় যাব? কেন যাব? কার কাছে যাব? ঢাকার রাস্তায় একা হাঁটতে থাকি। পায়ে আমার পাথর। অনেক ভার এই পাথরের। এই পাথর হয়তো আমাকে নিয়ে যায় রমনার সেই বেঞ্চে। কিংবা সিনেপ্লেক্সের টিকিট বুথে। নয়তো পিৎজা খাওয়ার ছোট্ট রেস্তোরাঁয়। পাথরের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে আমি বোকার মতো দাঁড়িয়ে থাকি। একসময় ফিরে আসি। এই শহর এখন অনেক অচেনা অচেনা লাগে। ছুটির দিনে ইচ্ছে করে একটা গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে যেতে। একটা আনাড়ি চালক থাকবে সেই গাড়ির। আর থাকবে একটা অসুস্থ মস্তিষ্কের বাসচালক। সেই দিনটার মতো। চট্টগ্রামে একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে সবার সঙ্গে তুমি, আমি ছাড়া। কুমিল্লার হাইওয়েতে একটা বাঁক পার হতে গিয়ে বাসটা উঠে যাবে আমার গাড়িতে। একটা লাশ হয়ে আমি পড়ে থাকব রাস্তায়। বেশ হবে। আর কারও পৃথিবী খালি খালি হবে না। আর কারও মরে যেতে ইচ্ছে করবে না। আর কারও পোড়া হৃদয় নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে না, পুরো একটা জীবন।
তুমি নেই। তোমার স্মৃতিগুলো কয়লার মতো পোড়ায়। বাতাসে তোমার ছোঁয়া, আমাকে বর্শার মতো খোঁচায়। পাথর সময় বৃশ্চিকের মতো কামড়ে ধরে। কাটায় ভরা রাজপথে হাঁটতে গিয়ে আমি রক্তাক্ত হয়ে যাই। খাটে ভাঙা কাচের টুকরো আমার পিঠ ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায়। ছয়টা মাস আমি ছিন্নবিচ্ছিন্ন হচ্ছি। বীভৎস একটা জীবন্ত লাশ হয়ে আমি টলমল করছি।